![]() |
| Dam |
মুকুটমণিপুর ভ্রমণ গাইড: পাহাড় ও জলাশয়ের মনোরম মিলনস্থল (Mukutmanipur Travel Guide)
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কংসাবতী ও কুমারী নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত মুকুটমণিপুর (Mukutmanipur) হলো প্রকৃতির কোলে ছুটি কাটানোর এক অসাধারণ গন্তব্য। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাটির বাঁধ (Kangsabati Earth Dam) নিয়ে গঠিত এই জায়গাটি তার সুবিশাল জলাশয়, সবুজ পাহাড়, শান্ত পরিবেশ এবং নৌকাভ্রমণের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সপ্তাহান্তের ১-২ দিনের রিফ্রেশিং ট্রিপের জন্য এটি একদম উপযুক্ত।
![]() |
| Natural Beauty Of Mukutmanipur |
প্রধান দর্শনীয় স্থান ও আকর্ষণ (Top Attractions)
কংসাবতী ড্যাম (Kangsabati Dam): প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশালাকার মাটির বাঁধ ও তার জলাশয় মুকুটমণিপুরের প্রধান আকর্ষণ। বাঁধের ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জল ও পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
বোট রাইডিং ও বনপুকুরিয়া ডিয়ার পার্ক: জলাশয়ে মোটরবোট বা ডিঙি নৌকায় চেপে ভেসে বেড়ানো এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। নৌকো করে জলাশয়ের অপর পারে অবস্থিত বনপুকুরিয়া হরিণ উদ্যানে (Dear Park) যাওয়া যায়, যেখানে সবুজ জঙ্গলে হরিণদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
পরেশনাথ পাহাড় ও শিব মন্দির: জলাশয়ের মাঝখানে ও আশেপাশে অবস্থিত এই পাহাড় ও মন্দির আধ্যাত্মিক পরিবেশের পাশাপাশি পুরো এলাকার প্যানোরামিক ভিউ প্রদান করে।
সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়: মুকুটমণিপুরের জলাশয়ের বুকে সূর্যাস্তের দৃশ্য সত্যিই মায়াবী। বিশেষ করে বিকেলের আলোয় জলের শান্ত প্রতিচ্ছবি ফটোগ্রাফি প্রেমীদের মুগ্ধ করে।
অম্বিকানগর: মুকুটমণিপুর থেকে মাত্র ৩-৪ কিমি দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থানটি জৈন তীর্থক্ষেত্র এবং অম্বিকা দেবীর মন্দিরের জন্য বিখ্যাত।
ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit)
অক্টোবর থেকে মার্চ (শীতকাল): ভ্রমণ ও সাইটসিয়িংয়ের জন্য সেরা সময়। আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং প্রচুর পরিযায়ী পাখি জলাশয়ে আসে।
বর্ষাকাল (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর): বর্ষায় ড্যামের লকগেট খোলা হলে এবং চারপাশের প্রকৃতি নতুন সবুজ রূপ নিলে মুকুটমণিপুরের রূপ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
কীভাবে যাবেন? (How to Reach)
ট্রেনে:
হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বাঁকুড়া জংশন (BQK) বা খাতড়া পৌঁছান।
বাঁকুড়া স্টেশন থেকে মুকুটমণিপুরের দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিমি। স্টেশন বাইরে থেকে সরাসরি বাস, অটো বা প্রাইভেট ক্যাব বুক করে সহজেই পৌঁছানো যায়।
সড়কপথে:
থাকা ও খাওয়া (Stay & Food)
থাকা: মুকুটমণিপুরে রাজ্য সরকারের ট্যুরিস্ট লজ (WBTDCL), পঞ্চায়েত সমিতির রিসোর্ট এবং একাধিক মানসম্মত বেসরকারি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে।
খাওয়া: এখানকার রিসোর্ট ও স্থানীয় হোটেলগুলোতে তাজা কংসাবতী নদীর মাছের (রুই, কাৎলা, পাঁকাল) ঝোল, পোস্টো ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি থালি অত্যন্ত সুস্বাদু।
আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Places)
মুকুটমণিপুর ঘোরার পাশাপাশি আপনি সহজেই কাছেই অবস্থিত খাতড়া, ঝিলিমিলি (Jhilimili), রানিবাঁধ এবং সুশুনিয়া পাহাড় ঘুরে নিতে পারেন।







