মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক ক্লক টাওয়ার: নিজামত কিলে প্রাঙ্গণের নীরব সাক্ষী
পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক শহর মুর্শিদাবাদে হাজারদুয়ারি প্রাসাদের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য—মুর্শিদাবাদ ক্লক টাওয়ার (Clock Tower), যা স্থানীয়দের কাছে 'ঘণ্টাঘর' নামেও পরিচিত। ভাগীরথী নদীর উপকূলে নিজামত কিলে (Nizamat Kila) প্রাঙ্গণে অবস্থিত এই বিশাল ঘড়ি ঘরটি তৎকালীন নওয়াবি আমল এবং ব্রিটিশ স্থাপত্যরীতির এক অপূর্ব নিদর্শন।
মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের সময় হাজারদুয়ারির পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক ক্লক টাওয়ারটি পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
ইতিহাস ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
১৯ শতকে তৈরি এই ঘড়ি ঘরটির পেছনে রয়েছে আকর্ষণীয় ইতিহাস ও স্থাপত্যকলা:
নির্মাণ ও স্থপতি: হাজারদুয়ারি প্রাসাদের স্থপতি কर्नल ডানকান ম্যাকলিওডের (Duncan MacLeod) নকশাতেই ১৮৬৩-১৮৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই ক্লক টাওয়ারটি নির্মিত হয়। নবাব নাজিম হামায়ুন জাহের আমলে এর কাজ শুরু হয়েছিল।
বিশাল আকৃতি: চারতলা বিশিষ্ট এই টাওয়ারটি বেশ উঁচু। এর মাথায় একটি বিশাল ডাবল-সাইডেড ঘড়ি রয়েছে, যার ডায়াল বহু দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়।
ম্যুরাল ও কারুকার্য: টাওয়ারের গায়ে সূক্ষ্ম চুন-সুরকির কাজ এবং অলঙ্করণ রয়েছে। টাওয়ারের উপরের দিকে ভারী একটি ঘণ্টা ঝোলানো আছে।
নদীর সৌন্দর্য: ভাগীরথী নদীর একেবারে তীরে অবস্থিত হওয়ায় গোধূলির আলোয় টাওয়ারটির সৌন্দর্য আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
কেন পরিদর্শন করবেন?
ক্লক টাওয়ারটি শুধুমাত্র সময় দেখানোর জন্য তৈরি হয়নি; এটি তৎকালীন নিজামত প্রশাসনের সময়ানুবর্তিতা এবং নওয়াবি রাজপ্রাসাদ প্রাঙ্গণের অন্যতম সৌন্দর্যকেন্দ্র ছিল। বর্তমানে এটি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (ASI) অধীনে সংরক্ষিত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। ছবি তোলার জন্য এটি মুর্শিদাবাদের অন্যতম জনপ্রিয় স্পট।
কীভাবে পৌঁছাবেন?
অবস্থান: মুর্শিদাবাদ শহরের হাজারদুয়ারি প্রাসাদ ও ইমামবাড়ার ঠিক মাঝখানের প্রাঙ্গণে এটি অবস্থিত।
যাতায়াত: কলকাতা বা বহরমপুর থেকে ট্রেনে মুর্শিদাবাদ স্টেশনে নেমে টোটো বা ট্যাক্সি নিয়ে সহজেই নিজামত কিলে প্রাঙ্গণে পৌঁছানো যায়।

No comments:
Post a Comment