![]() |
| Radhagovindjiu Temple |
আঁটপুর রাধাগোবিন্দজিউ মন্দির ভ্রমণ গাইড: পোড়ামাটির স্থাপত্য ও রামকৃষ্ণ মঠের পুণ্যভূমি (Antpur Radhagovindjiu Temple)
পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া ব্লকে অবস্থিত আঁটপুর (Antpur) হলো ইতিহাস, অনন্য টেরাকোটা স্থাপত্য এবং আধ্যাত্মিক ভাবধারায় সমৃদ্ধ একটি শান্ত গ্রাম। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো ১৭৮৬ সালে নির্মিত বিখ্যাত রাধাগোবিন্দজিউ মন্দির (Radhagovindjiu Temple)। বিষ্ণুপুরের পর বাংলার টেরাকোটা বা পোড়ামাটির শিল্পকলার অন্যতম সেরা নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায় এই আঁটপুরে। এছাড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ইতিহাসে আঁটপুরের অবদান অপরিসীম।
কলকাতা থেকে মাত্র ২-৩ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই স্থানটি সপ্তাহান্তের একদিনের ছুটির (Day trip) জন্য আদর্শ।
১. রাধাগোবিন্দজিউ মন্দিরের ইতিহাস ও স্থাপত্য (History & Architecture)
নির্মাণের ইতিহাস: বর্ধমান রাজবাড়ির দেওয়ান কৃষ্ণরাম মিত্র ১৭৮৬ সালে (১১৯৩ বঙ্গাব্দে) এই রাধাগোবিন্দজিউ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি নির্মাণ করতে প্রায় ১২ বছর সময় লেগেছিল।
চালা স্থাপত্যশৈলী: আঠারো শতকে নির্মিত এই বিশাল মন্দিরটি 'আটচালা' স্থাপত্যরীতির চমৎকার উদাহরণ। ১০০ ফুট উঁচু এই মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির সূক্ষ্ম কাজ রয়েছে।
টেরাকোটা কারুকাজ: মন্দিরের দেয়াল ও খিলানে রামানন্দ, মহাভারত ও রামায়ণের বিভিন্ন দৃশ্য, কৃষ্ণলীলা, দেব-দেবীর মূর্তি এবং তৎকালীন তৎকালীন সামাজিক জীবনের নানা দৃশ্য (যেমন যুদ্ধযাত্রা, পালকি, নৌকো ইত্যাদি) পোড়ামাটির ফলকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা আছে।
রাস মঞ্চ ও দোল মঞ্চ: মূল মন্দিরের পাশেই রয়েছে কারুকার্যময় রাস মঞ্চ ও দোল মঞ্চ। চত্বরের মধ্যে গঙ্গাধরেশ্বর, বাণেশ্বর, জলেশ্বর, রাজরাজেশ্বর ও সিদ্ধেশ্বর নামে পাঁচটি শিব মন্দিরও রয়েছে।
২. আধ্যাত্মিক গুরুত্ব: রামকৃষ্ণ মঠ ও বাবুপাড়া (Antpur Ramakrishna Math)
আঁটপুর শুধুমাত্র তার মন্দিরের জন্য নয়, রামকৃষ্ণ আন্দোলনের ইতিহাসেও এক অত্যন্ত পবিত্র স্থান।
সন্ন্যাস গ্রহণের সঙ্কল্প: ১৮৮৬ সালের ২৪শে ডিসেম্বর ক্রিসমাস ইভ-এর রাতে স্বামিজী (স্বামী বিবেকানন্দ) এবং শ্রী রামকৃষ্ণের অন্য আটজন গৃহত্যাগী শিষ্য আঁটপুরের মিত্রবাড়ির সামনে ধুনি জ্বালিয়ে সারা রাত ধরে আত্মত্যাগ ও সন্ন্যাস জীবনের সঙ্কল্প গ্রহণ করেন।
রামকৃষ্ণ মঠ: যে স্থানে ধুনি জ্বালানো হয়েছিল, সেখানে পরবর্তীতে আঁটপুর রামকৃষ্ণ মঠ স্থাপন করা হয়। এটি রামকৃষ্ণ মিশনের অন্যতম শান্ত ও মনোমুগ্ধকর শাখা।
৩. কীভাবে যাবেন? (How to Reach)
ট্রেনে:
হাওড়া স্টেশন থেকে হাওড়া-তারকেশ্বর বা হাওড়া-আরামবাগ স্থানীয় ট্রেন ধরে হরিপাল (Haripal) বা তারকেশ্বর স্টেশনে নামুন।
হরিপাল স্টেশন থেকে আঁটপুরের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিমি। স্টেশন বাইরে থেকে অটো, টোটো বা বাস নিয়ে আঁটপুর পৌঁছে যাওয়া যায়।
বাসে:
কলকাতার হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে জাঙ্গিপাড়াগামী বাসে সরাসরি আঁটপুর যাওয়া যায়।
সড়কপথে (গাড়ি বা বাইকে):
কলকাতা থেকে অহল্যাবাঈ রোড (Ahalyabai Road) হয়ে হরিপাল বা জাঙ্গিপাড়া রোড ধরে সহজে পৌঁছানো যায় (দূরত্ব প্রায় ৫০-৫৫ কিমি)।

No comments:
Post a Comment